বজ্রপাতের সময় টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সুরক্ষায় করণীয় - Ponnobd Electronics

বজ্রপাতের সময় টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সুরক্ষায় করণীয়

ঝড়-বৃষ্টির সময় অসীম শক্তির এক বিভীষিকার নাম বজ্রপাত। বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লাখ, লাখ টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামান্য বৃষ্টিপাত বা ঝোড়ো বাতাসেও ঘটছে বজ্রপাতের ঘটনা। কারণ, বর্তমানে বাতাসে সালফার ও নাইট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে গেছে। আর তাই ঘন ঘন ঘটছে বজ্রপাতের ঘটনা।

বজ্রপাত কিঃ

মূলত বজ্রপাত হচ্ছে মেঘের মধ্যে পুঞ্জীভূত বৈদ্যুতিক চার্জের সমষ্টি। যা এতই শক্তিশালী যে বাতাসের ডাই ইলেকট্রিক ইন্সুলেশন প্রোপার্টি ভেদ ক’রে মাটিতে বা কোনো উঁচু স্থানে আছড়ে পড়ে।

বাংলাদেশে বজ্রপাতের প্রভাবঃ

বাংলাদেশের অবস্থান বজ্রপাত প্রবণ অঞ্চলে। বজ্রপাত বন্ধ বা প্রতিরোধের কোনো উপায় নেই, কারণ এটা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট। তবে বজ্রপাতে প্রাণহানি ও ক্ষতি কমিয়ে আনা কিংবা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। বজ্রপাতে প্রতিবছর শতাধিক তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ওভেনসহ মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী। অনেকে বুঝতেই পারছেন না এর কারণ।

প্রতিবছরই শহর কিংবা গ্রামাঞ্চলে বজ্রপাতে ঘরের বিভিন্ন ধরনের ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবহার্য পণ্য নষ্ট হয়।বিশ্বব্যাপী প্রতি সেকেন্ডে একশ’রও বেশি বজ্রপাত হয়। বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন। সম্প্রতি দেশে বজ্রপাতের কারণে ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বজ্রপাতের মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই দেশে বহু মানুষ বজ্রাঘাতে প্রাণ হারাচ্ছেন। এছাড়াও, বজ্রপাতের কারণে অনেকের কম্পিউটার, ফ্রিজ, টিভিসহ নানা প্রযুক্তি পণ্যেরও ক্ষতি হচ্ছে।

করনীয় কিঃ

কৌশল জানলে ও সর্তক থাকলে বজ্রপাতের কবল থেকে প্রযুক্তি পণ্যকে রক্ষা করা যাবে।
বজ্রপাতের আভাস পেলেই কম্পিউটার, রাউটার, টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সুইচ অফ রাখুন। বাসার বাইরে থাকার সময়ও বজ্রপাত হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাইরে যাওয়ার আগেই কম্পিউটার, রাউটারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যের সুইচ অফ করে দিলে বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি এড়ানো যাবে।

বজ্রপাতের কারণে অনেক টেলিভিশন নষ্ট হয়। কারণ টেলিভিশনের সাথে ডিশের লাইন সংযুক্ত থাকে। ফলে কোনো এলাকায় বজ্রপাত হলে তা ডিশের লাইনের মাধ্যমে সহজেই টিভির ক্ষতি করে। অনেকেই কম্পিউটারে টিভি কার্ড ব্যবহার করেন। ফলে বজ্রপাতের সময় ডিশ লাইন সংযোগ থাকায় কম্পিউটারেরও ক্ষতি হতে পারে। এক্ষেত্রে বজ্রপাতের সময় ডিশের সংযোগটি খুলে রাখুন। এতে প্রযুক্তি পণ্যটি নিরাপদ থাকবে।
বজ্রপাতের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় রাউটার ডিভাইসগুলোর। বজ্রপাতের আভাস পেলে শুধু রাউটারের লাইন বন্ধ করলেই চলবে না; রাউটার থেকে ইন্টারনেট সংযোগের ল্যান ক্যাবলটিও খুলে রাখতে হবে। তবে যদি আপনার ইন্টারনেট সংযোগে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল ব্যবহার করা হয় তাহলে বজ্রপাতের ক্ষতির আশংকা কম থাকে। কারণ এ সকল ক্যাবলে ধাতব তারের ব্যবহার থাকে না।

বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা পেতে ভালো মানের মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করুন। যে মাল্টিপ্লাগগুলো সেলফ কন্ট্রোল অটোমেটিক সিস্টেমে বিদ্যুৎপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলো ব্যবহার করাই ভালো। ফলে হাই ভোল্টেজ বা বজ্রপাতের সময়ও মাল্টিপ্লাগের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা ডিভাইসে প্রভাব পড়বে না। বাজারে এমন নানা ব্র্যান্ডের মাল্টিপ্লাগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হান্টকি ব্র্যান্ড। দেশের বাজারে ব্রান্ডটির মাল্টিপ্লাগ মডেল ভেদে দাম পাঁচশ’ থেকে তিন হাজার টাকা।
বজ্রপাত থেকে বাসাবাড়ি ও যন্ত্রাংশ রক্ষা করতে আর্থিং করতে হবে। বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ নেওয়ার সময় একটা মেইন লাইন থাকে এবং অন্যটি থাকে নিউট্রাল লাইন। লক্ষ্য রাখুন, এই নিউট্রাল লাইনটা যাতে রড বা তার দিয়ে ভালভাবে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয় যাকে বলে আর্থিং। এটি বিদ্যুৎকে নিরাপদে মাটিতে নিয়ে যেতে ব্যবহৃত হয়। বজ্রপাতের কারণে অতিরিক্ত ভোল্টেজ বা কারেন্ট প্রবাহিত হলে আর্থিংয়ের মাধ্যমে তা নিরাপদ পথে মাটিতে নেমে আসবে। ফলে আপনার ঘরের টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক বহু মূল্যবান যন্ত্রাংশ থাকবে সুরক্ষায়।

আমার লিখাটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে বেশি শেয়ার করে অন্যদের জানিয়ে দিন। মনে রাখবেন আপনার একটি শেয়ার এর কারনে যদি অন্ন কেউ উপকৃত হয় তাহলে তার ভাগ কিন্তু আপনিও পাবেন । আমার লিখাটি কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন ।

ধন্যবাদ

 

Leave a Comment

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial