মস্তিষ্কের ঝুঁকি বাড়ে সাধারণ টিভি দেখলে/ বাড়ে মৃত্যু ঝুঁকিও

শারীরিক ঝুঁকির সাথে সাথে মস্তিষ্কের ঝুঁকি বাড়ে টিভি দেখলে বিশেষ করে দীর্ঘদিন যাদের একটানা অনেকক্ষণ টিভি দেখার অভ্যাস আছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন শৈশবে যারা তিন ঘণ্টা করে রোজ টিভি দেখে মধ্যবয়সে তাদের বোধশক্তি পায়। তাই টিভি শুধু শারীরিক ক্ষতিই করে না মানসিক ক্ষমতাও হ্রাস করে। যেমনঃ চিন্তাশক্তি হ্রাস পাওয়া,অধৈর্য, অস্থিরতা, আসক্তি, বিষণ্ণতা, অনিদ্রা ইত্যাদি। আবার টেলিভিশনের অনেক অনুষ্ঠান শিশু কিশোরদের মনে ভীতি বা বৈরী মনোভাব সৃষ্টি করে। তাই সঠিক অনুষ্ঠান নির্বাচন এবং টিভি দেখার সময়সীমায় সীমাবদ্ধতা আনা উচিত।                       

অতিরিক্ত টিভি দেখায় যেসব মানসিক সমস্যা দেখা দেয়  

যাদের দীর্ঘদিন ধরে টিভির অভ্যাস আছে তারা জীবনের কোন না কোন পর্যায় মানসিক নানা সমস্যায় ভোগে থাকে। এটি যেকোন বয়সেই হতে পারে শিশু কিশোর থেকে বয়স্ক মানুষদেরও। শারীরিক সমস্যাগুলোর মত মানসিক সমস্যাগুলো ধ্রুত অবলোকন করা যায় না বলে আমরা সেগুলো বোঝতে পারি না। যাইহোক, এখন আসুন মানসিক সমস্যাগুলো যা মস্তিষ্কের ঝুঁকি বাড়ে টিভি দেখলে তা জেনে নেই।

অনিদ্রা

যাদের রাত জেগে টিভি দেখার বাজে অভ্যাস আসে তারা বেশির ভাগ এ অনিদ্রায় ভোগে। তবে শুধু টেলিভিশনের জন্য নয়, অনেক রাত জেগে কম্পিউটার চালালে, অনলাইনে ব্যস্ত থাকলেও অনিদ্রা হতে পারে। কারণ মনিটরের নীল রশ্মি রেটিনার মাধ্যমে সরাসরি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে গিয়ে একধরনের রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণে ব্যাঘাত ঘটায়। এই রাসায়নিক পদার্থটি হচ্ছে মেলাটোনিন যা ঝিমুনি ভাব এনে দেয় ঘুমানোর আগে। আবার ঘুমের আগে সিরিয়াস কোন অনুষ্ঠান দেখলও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

বিষণ্ণতা

টিভি চ্যানেলে নানা ধরনের অনুষ্ঠান প্রতিদিন সম্প্রচার হয়ে থাকে। অনেক ধরনের অনুষ্ঠানই মন বিষণ্ণের কারণ হতে পারে। যেমনঃ সংবাদে দুর্ঘটনা, হত্যা, এগুলো যে কাররই মনে দুঃখবোধ আনতে পারে। আবার যাদের খুব বেশি সময় টিভি দেখে কাটায় তারা একাকীত্বে ভোগে থাকে। আর বিষণ্ণতা সব ধরনের মানুষেরই হতে পারে।

চিন্তাশক্তির হ্রাস

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ ২৫ বছর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন যে, শারীরিক শ্রম এবং অল্প বয়স থেকেই লম্বা সময় টিভি দেখার সাথে বোধশক্তি বা চিন্তাশক্তি হ্রাসের সম্পর্ক রয়েছে। একটা সময়ে মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা আসলেই কমতে থাকে বিশেষ করে বার্ধক্যে। কিন্তু অতিরিক্ত টেলিভিশনের আসক্তির কারণে সেটা মধ্য বয়স্ থেকেই তরান্বিত হয়।

আসক্তি

সব সময় টিভি, কম্পিউটার, ফোন নিয়ে পড়ে থাকা একধরনের আসক্তি বোটে। যদি কেও বেশি সময় টিভি না দেখে বা ফোন ব্যবহার না করে থাকতে না পারে তাহলে সেটা আসক্তি পর্যায় পরে। আবার এইসব প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য অস্থিরতা আসক্তি বলা যেতে পারে। আর আসক্তি কখনোই ভালো নয়।

উদ্বেগ

টিভির অনেক প্রোগ্রাম শিশুদের দেখা উচিত নয় যেমনঃ খুন, দুর্ঘটনার সংবাদ, ক্রাইম পেট্রল (বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে বিশেষ নাটিকা) ইত্যাদি। এগুলো কমলমতি শিশুদের মনে নানা প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে। আবার মনে ভয় ভীতিরও সঞ্চার করে। দেখা দেয় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। কারণ টিভির অনুষ্ঠান গুলো এতই বাস্তবিক করে তৈরি করা হয় যে মানুষ মনে প্রভাব ফেলতে বাধ্য।

অতিরিক্ত টিভি দেখা পরিহার করুন।

সুস্থ এবং নীরোগ ভাবে বাঁচতে চাইলে অতিরিক্ত টিভি দেখার অভ্যাস পরিহার করুন। রাত জেগে টিভি দেখা বর্জন করুন এবং দৈনিক অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানর অভ্যাস করুন। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনযোগী হন। সেই সাথে মধ্য রাতে এবং বিকেলে টেলিভিশন দেখা পরিহার করুন। বেকেলে কিছু সময় গাছ প্রকৃতির মাঝে সময় কাটান। তাহলে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং মনও ভালো থাকবে। আশা করা যায়, যে কারণে মস্তিষ্কের ঝুঁকি বাড়ে টিভি দেখলে, সবাই এখন থেকে টিভি দেখা সীমিত করবে। তবে, পণ্যবিডি ইলেক্ট্রনিক্স আপনাকে দিচ্ছে Pentanik ব্র্যান্ডের স্মার্ট আই-প্রটেকটিভ এলইডি টিভি, যা চোখের ক্ষতি থেকে আপনাকে ও আপনার পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করবে। আই-প্রটেকটিভ এলইডি টিভিগুলো দেখতে চলে আসুন আমাদের শো-রুমে অথবা এখানে ক্লিক করুন

Leave a Comment